
পারভেজ বাঙালী, বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার চার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে মো. শাহজাহান (৫৫) নামে একজনকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে সীতাকুণ্ডের আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ২৪ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ২৫ আগস্ট ভোর পর্যন্ত আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়। এ সময় মো. জুয়েল (৩০), মো. ফারুক (২৯), মো. আইনুদ্দিন (৩৬), মো. ফেরদৌস (৫০) ও মো. শাহজাহান (৫৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জুয়েল, ফারুক, আইনুদ্দিন ও ফেরদৌসের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানার মামলা রয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ঘ) এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪-এ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, শাহজাহান পেশাদার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তাদের সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার কোথাও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্যের অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না। আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা শক্তিশালী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। জননিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।