প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 21, 2026 ইং
চট্টগ্রামে জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ ৯৯ ভরি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম, যা ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তির সমান। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক জনব বিপ্লব বসাক। তাঁর প্রতিষ্ঠানে ১২-১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন রোমেন দে (৩৬)।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মচারীরা মজুত স্বর্ণের হিসাব মিলানোর সময় কয়েকটি বক্সে অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি মোবাইল ফোনে মালিককে জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি দোকানে আসার পথে বিষয়টি টের পেয়ে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে দোকানের মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেন দের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। এসব চুড়ির মোট ওজন ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম বা ৭৯ দশমিক ৫১ ভরি। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। চুড়িগুলোর পরিবর্তে বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকানের মালিক। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমাম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্সের মালিক শ্যামল সিংহকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শ্যামল সিংহের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডে তাঁর মালিকানাধীন মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।
এরপর শ্যামল সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁর কাছে থাকা আরও ৩৯টি চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৩৯টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার বিভিন্ন স্বর্ণ বন্ধকী প্রতিষ্ঠান থেকেও স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।
পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎ হওয়া ৫৩টি চুড়িসহ মোট ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪