প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং
১৯ নম্বর ওয়ার্ডে যত্রতত্র বর্জ্য, নাসিকের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ

বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকার অলিগলিতে যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য সিটি করপোরেশনের নিযুক্ত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করতেন। এজন্য প্রতিটি বাসা থেকে মাসিক প্রায় ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো সংশ্লিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহকারীকে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে অনেক এলাকায় ওই কর্মীদের নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাসাবাড়িতে জমে থাকা বর্জ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বর্জ্য সংগ্রহের নিয়মিত ব্যবস্থা বন্ধ বা ব্যাহত হওয়ার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের সুবিধামতো রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা বিভিন্ন অলিগলিতে ময়লা ফেলছেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘসময় ধরে এসব বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্জ্যের স্তূপ থেকে কুকুর ও অন্যান্য প্রাণী ময়লা টেনে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে রাস্তা ও ফুটপাত অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি জমে থাকা বর্জ্যে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। বর্ষাকালে এসব বর্জ্য নালা-নর্দমায় গিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে রাস্তার ওপর ও চলাচলের পথে বর্জ্য পড়ে থাকায় পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে কী কারণে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা নিয়মিতভাবে কাজ করছেন না, সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নিয়মিত অর্থ নেওয়া হলেও সেই অনুযায়ী সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।
স্থানীয়দের দাবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা। নিয়মিত বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, নির্দিষ্ট স্থানে তা অপসারণ এবং রাস্তা-অলিগলি পরিষ্কার রাখার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী বলছেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নাগরিকদের মৌলিক প্রত্যাশা। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা দূর করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্বার্থে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪