
‘রাজপথে ছিলাম, তবুও মূল্যায়ন নেই’—তারেক রহমানের কাছে তৃণমূলের কথা বলতে চান গোলাম নবী অপেল
হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ফেসবুক লাইভে আক্ষেপ; ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি
পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পরও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে নিজেদের কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ চেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি গোলাম নবী অপেল।
সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে এসে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
গোলাম নবী অপেল দাবি করেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সঙ্গে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের ত্যাগের পরও অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে তিনি তৃণমূলের কিছু কথা তুলে ধরতে চান। তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তার।
নিজের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে অপেল বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়া যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের ‘দোসরদের’ হামলার শিকার হন তিনি। ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং সেটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গোলাম নবী অপেল বলেন, চট্টগ্রামে প্রথম দফার অবরোধ কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে রিমান্ডের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এসব আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় মিছিলেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এত আন্দোলন-সংগ্রামের পরও কেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এ প্রশ্নই এখন সামনে আনতে চান অপেল।
তিনি বলেন, “হাজার হাজার তৃণমূল নেতাকর্মী দলের জন্য রাজপথে থেকে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই এখনো কষ্টের জীবনযাপন করছেন। অথচ তাদের অনেকেরই রাজনৈতিক কিংবা সামাজিকভাবে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন হয়নি।”
কাজের সুযোগ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন জায়গায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও অনেকে বাধার মুখে পড়ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের পরও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী আর্থিক ও সামাজিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
গোলাম নবী অপেলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপিতে যুক্ত হওয়া কিছু ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মী এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালী হয়ে উঠলেও দলের কঠিন সময়ে তাদের অনেককে রাজপথে দেখা যায়নি। বিপরীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে থাকা অনেক নেতাকর্মী হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার কথা জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
অপেল বলেন, “আমরা চাই দল আমাদের মতো ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করুক। আমরা যদি চট্টগ্রামের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আমাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেতাম, তাহলে আমাদের কষ্টের কথাগুলো নেতার কাছে সরাসরি বলতে পারতাম। এতে দীর্ঘদিনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরাও মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতেন।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরও তিনি ‘জুলাই সনদ’ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে মনে করেন। যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবশেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে গোলাম নবী অপেল বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কোনো সুবিধার জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা তৃণমূলের অসহায় নেতাকর্মীদের কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
তার প্রত্যাশা—দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অবদান বিবেচনায় নিয়ে সাংগঠনিকভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে এবং তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।