
বিশেষ প্রতিনিধির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন :--
সরকারি অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়াই পত্রিকা প্রকাশের নাম ভাঙিয়ে সারা দেশে সাংবাদিক কার্ড বাণিজ্য, প্রতিনিধি নিয়োগ ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এবং জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর প্রকৃত অনুমোদন ও স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসান রতন হলেও, ঢাকার ফার্মগেটে বিলাসবহুল অফিস খুলে পত্রিকাটির মূল সম্পাদক দাবি করে খায়রুল আলম রফিক নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছেন বলে বিভিন্ন নথিপত্র ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সরকারি নথি বনাম জালিয়াতি: প্রকৃত সম্পাদক কে?
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (নিবন্ধন শাখা) স্মারক নং- ১৫.৫৭.০০০০.০০২.০৮.০০৩.১৮/১০৪০ (তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮) অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী মাহমুদুল হাসান রতনকে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার ছাড়পত্র ও অনুমোদন প্রদান করা হয়।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যালোচনায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে:
প্রকৃত প্রকাশক ও সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান (রতন)।
অনুমোদিত ঠিকানা: ১০ সি.এস.ডি রোড, ছোট বাজার, ময়মনসিংহ।
অথচ সরকারি নির্দেশনাবলীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাইরুল আলম রফিক নিজেকে ‘প্রধান সম্পাদক’ ও ‘সম্পাদক’ হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যাানার এবং অনলাইনে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
ফার্মগেটে ভুয়া অফিস ও নিয়োগ বাণিজ্য
প্রাপ্ত নথিপত্র এবং স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, খায়রুল আলম রফিকের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ২২ নং ইন্দিরা রোড (৩য় তলা), ফার্মগেট এলাকায় একটি অননুমোদিত ও বিলাসবহুল কার্যালয় গড়ে তোলে। সেখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ভুয়া সাংবাদিক নিয়োগ ও প্রতিনিধি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
এই চক্রের সাথে যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন:
খায়রুল আলম রফিক (ভুয়া সম্পাদক)
রেজাউল করিম রেজা (ভুয়া সাংবাদিক)
মতিউর রহমান (ভুয়া নির্বাহী সম্পাদক)
সেলিম সরকার (ভুয়া রিপোর্টার)
অনুমোদনহীন এই পত্রিকাটি এমনকি দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ‘প্রতিনিধি সম্মেলন’ আয়োজনের নামে কার্ডধারী সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।
হাইকোর্টের রুল ও আইনি পদক্ষেপ
অননুমোদিতভাবে নাম ব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে পত্রিকা পরিচালনার বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:
১. হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন:
হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন (নং- ১৮১৫১) শুনানিতে আদালত ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী অননুমোদিত ও অবৈধভাবে ‘প্রতিদিনের কাগজ’ প্রকাশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর রুল জারি করেছেন।
২. সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে অপপ্রচার এবং জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৩’ (ধারা ২৫/২৬/২৭/৩০)-এর অধীনে মামলা (সাইবার পিটিশন মামলা নং- ২০৭/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও জনগণের সতর্কতা
অনুমোদনহীন এই চক্রটির কারণে একদিকে যেমন প্রকৃত সংবাদপত্র শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ভুয়া সাংবাদিকদের হাত থেকে নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই সচেতন নাগরিক ও ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা ভূঁইফোঁড় এই চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
একই সাথে, অননুমোদিত প্রচারপত্র, ভুয়া প্রেস কার্ড ও ফার্মগেটের কার্যালয় থেকে পরিচালিত যেকোনো লেনদেন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকা পাঠক পাঠিকা,বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক নির্বাহী সম্পাদক, সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের প্রশ্ন ""দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ"" আসলে তুমি কার? দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের মালিকানা এবং সম্পাদকের দায়িত্বে রতন নাকি রফিক?