প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং
ভারতে পালানোর পথে যশোরে ধরা পড়লেন ‘ডেভিড ইমন’, আটক আরও তিনজন

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধী মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় যশোরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই অভিযানে তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আগে থেকেই প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় বুধবার গভীর রাতে একটি বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করা হয়।
প্রথমে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের বেনাপোল ভ্রমণে যাওয়ার কথা বললেও পুলিশের সন্দেহ কাটেনি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সহযোগীরা স্বীকার করেন, তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিই মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। এরপর চারজনকে হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশকে জানানো হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছিল। তথ্য যাচাইয়ের পর ইমনসহ চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া হত্যাকাণ্ডসহ মোট ১৮টি মামলার আসামি ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, হামলা ও সংগঠিত অপরাধে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনা, গত বছরের চন্দনপুরা এলাকায় জোড়া হত্যা, পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক আলোচিত ঘটনায়ও তার নাম এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ইমন বর্তমানে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত। গ্রুপটির আরেক নেতা ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪