প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং
নেপাল পালানোর সময় এয়ারপোর্টে আইটি জাদুকর সেজান গ্রেফতার!

কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ হ্যাক করে চোরাচালান, নেপাল পালানোর সময় এয়ারপোর্টে আইটি জাদুকর সেজান গ্রেফতার!
পারভেজ বাঙালী। চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
সরকারি বড় বড় ওয়েবসাইট ক্লোন করা থেকে শুরু করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তৈরি—ডিজিটাল জালিয়াতির দুনিয়ায় তার জুড়ি মেলা ভার। তথ্যপ্রযুক্তির এই নেতিবাচক দক্ষতাকে পুঁজি করে এবার দেশের অন্যতম সুরক্ষিত সার্ভার এনবিআর-এর 'অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম' (ASYCUDA World System) হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে ২৬ বছর বয়সী তরুণ শেখ সেজানের বিরুদ্ধে। কাস্টমস কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চুরি করে প্রায় ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিদেশি মদ ও সিগারেট খালাসের এই আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের মূল টেকনিক্যাল মাস্টারমাইন্ড এই সেজান।
অবশেষে নেপাল পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র চীন থেকে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দেয়। কিন্তু সেই কনটেইনারের ভেতরে ছিল ১১,৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট। এই বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করার জন্য প্রয়োজন ছিল কাস্টমসের ক্লিয়ারেন্স। আর এখানেই এন্ট্রি হয় আইটি এক্সপার্ট শেখ সেজানের।
সেজান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (CPA) পোর্টাল সিস্টেমের কারিগরি দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করে, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে এবং ভুয়া এলসি (LC) রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন করার কাজটি সম্পন্ন করে। এই ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়েছিল।
এর আগে সেজানকে গ্রেফতার করতে নড়াইলের লোহাগড়ায় তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তাকে না পাওয়া গেলেও তার ঘর থেকে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ডিজিটাল আলামত ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০ মে ২০২৪ তারিখে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমস অফিসারের আইডিতে লগইন করা হয়েছিল, যার সিমটি সেজানের নামেই নিবন্ধিত ছিল। পরবর্তীতে এই চক্রের অন্যতম সদস্য আশরাফ হোসেন ওরফে রাজু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে সেজানের নাম ও তার আইটি সাপোর্টের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শেখ সেজানের অপরাধের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। সে ও তার সহযোগীরা এর আগেও সরকারের বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোন (হুবহু নকল) করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুয়া এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ ও টিকা সনদ জালের অভিযোগে এর আগেও সিএমপি ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম টিমের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল সে। দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণার অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।
কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ জানায়, এই আন্তর্জাতিক চোরাচালান ও হ্যাকিংয়ের ঘটনায় এ পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর শীর্ষ কর্তাসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হলো। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪