
পারভেজ বাঙালী। চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামকে সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, শান্তিময় ও সম্প্রীতির আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রামে সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বন্ধনে বসবাস করে আসছেন। এই ঐতিহ্যকে যারা বিনষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নগরীর নন্দনকানন রথের পুকুরপাড়, ডিসি হিল ও প্রবর্তক মোড় এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
‘রথযাত্রা সম্প্রীতি ও সহনশীলতার প্রতীক’
উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,
"রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মূলত সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য প্রতীক। আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদা ও পূর্ণ নিরাপত্তার অনুভূতি নিয়ে বাস করতে পারবেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, চসিকের মূল লক্ষ্য হলো একটি 'ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেইফ সিটি' (পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ নগরী) গড়ে তোলা, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে।
নির্বিঘ্ন উৎসব নিশ্চিতে সরকারি নির্দেশনা
বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন:
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তথা তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই আনন্দঘন পরিবেশে রথযাত্রা উদযাপন করতে পারেন।
প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষায় প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।
কোনো ধরনের উস্কানিতে কান না দিয়ে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পাশে আছেন 'জনগণের সেবক' হয়ে
ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেকে মেয়রের চেয়ে জনগণের একজন ‘সেবক’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় বৈচিত্র্যের দেশ। এখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এবারের রথযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে নিরলস কাজ করছে। একই সাথে উৎসবের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি ভক্ত ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
শোভাযাত্রা শুরুর আগে চসিক মেয়র উপস্থিত ভক্তদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং রথযাত্রা কমিটির আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলে নিরাপত্তা ও রুট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। চসিকের পক্ষ থেকে এই উৎসবে সব ধরনের লজিস্টিক ও পরিচ্ছন্নতা সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
বর্ণাঢ্য এই রথযাত্রা উৎসবে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী হরিশ কুমার
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু
বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস
জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দাশ এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পালসহ সনাতন সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও হাজারো ভক্ত।