প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
আলীকদমের গহীন অঞ্চলে নাসীহা ফাউন্ডেশনের জরুরি ত্রাণ, উপকৃত হলো দুর্গম এলাকার ১০০ পরিবার

মোঃ আমির হোসাইন ছাদেকী, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা ও ভূমিধস। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম গহীন অঞ্চলের মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে।
এমন পরিস্থিতিতে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে নাসীহা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির উদ্যোগে সোমবার (১৩ জুলাই) আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার ১০০টি পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
নাসীহা ফাউন্ডেশনের বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার স্থানীয় প্রতিনিধি আমজাদ সাদেকীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমজাদ সাদেকী নিজে স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়ে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বন্যার পানিতে যেসব বাড়ির ঘর, আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে সেসব পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণসামগ্রী প্যাকেট করে প্রতিটি উপকারভোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা পৌঁছে দেন।
প্রতিটি পরিবারের জন্য ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ত্রাণ প্যাকেট বরাদ্দ ছিল। প্যাকেটের মধ্যে ছিল চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী।
ত্রাণ বিতরণ শেষে আমজাদ সাদেকী বলেন, "বন্যায় মানুষ যে কত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তা সরাসরি গিয়ে না দেখলে আসলে বোঝা অনেক কঠিন। গহীন পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের ভালো কোনো রাস্তাঘাট না থাকায় এখানকার মানুষ সরকারি-বেসরকারি কিংবা কোনো সংস্থা থেকে সহযোগিতা সহজে পায় না।"
তিনি আরও বলেন, "নাসীহা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়ে আজ আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে পেরেছি। ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগী মানুষগুলো খুব বেশি খুশি হয়েছেন। তাদের মুখের হাসিই আমাদের কাজের সার্থকতা।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অবহেলিত এসব এলাকায় নাসীহা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। বন্যার কারণে ঘরবাড়ি ও ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা খাদ্য সংকটে ভুগছিলেন।
উল্লেখ্য, নাসীহা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ও দুর্যোগকালীন সহায়তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪