প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয় বই হোক সঙ্গী নওগাঁ জেলা পুলিশের লাইব্রেরিতে পুলিশ সুপারের বার্তা

মোঃ রাফি হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগের মাধ্যমে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরলেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি নওগাঁ পুলিশ লাইন্সে অবস্থিত জেলা পুলিশের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’ পরিদর্শন করে সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বই পড়ার আহ্বান জানান।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, যুগে যুগে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার মানুষের মেধা, মনন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, “লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল।” অর্থাৎ মানুষের মানসিক সুস্থতা, জ্ঞানচর্চা এবং আত্মিক বিকাশে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পেশা অত্যন্ত ব্যস্ততা ও দায়িত্বপূর্ণ। তারপরও সুযোগ পেলেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বই মানুষকে শুধু জ্ঞানীই করে না, বরং চিন্তাশীল, মানবিক ও পেশাগতভাবে আরও দক্ষ করে তোলে।
পুলিশ সুপার জানান, সদস্যদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’-এ একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে। তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে অবসর সময়ে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার না করে বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। বই মানুষের চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ায়। একটি পাঠাভ্যাসসম্পন্ন পুলিশ বাহিনী জনগণের প্রতি আরও সংবেদনশীল, দক্ষ ও আধুনিক সেবা দিতে সক্ষম হবে।”
নওগাঁ জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও আধুনিক পুলিশিং গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন ইউনিফর্মে প্রথম কর্মদিবসেই বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার এমন বার্তা জেলা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশংসিত হয়েছে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪