প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং
পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির বিশেষ অভিযান

পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির বিশেষ অভিযান: নওগাঁয় নারী হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি
মোঃ রাফি হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বদলগাছি থানা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে নারী হত্যা মামলার মূল আসামি সৌখিন (২৫)কে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই ২০২৬ রাতে বদলগাছি উপজেলার পারআধাইপুর গ্রামের বুড়াকালী মন্দিরের পাশে গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধার করে বদলগাছি থানা পুলিশ। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে প্রথমে বদলগাছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত নারীর নাম তহমিনা ওরফে রেবা। তিনি ধামইরহাট উপজেলার ধুরাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বদলগাছি থানাকে দ্রুত মামলা রুজু, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে সৌখিন (২৫), পিতা- মোনায়েম, গ্রাম- মদনচক, থানা- মান্দা, জেলা- নওগাঁকে শনাক্ত করা হয়।
এরপর ডিবির বিশেষ দল গাজীপুর ও ঢাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। গত ১১ জুলাই ২০২৬ বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটনের শাহ আলী থানাধীন মিরপুর এলাকা থেকে সৌখিনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি তহমিনা ওরফে রেবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে যেকোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪