প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং
তীব্র তাপদাহে গোপালপুরে ভয়াবহ লোডশেডিং: রাতেও মিলছে না শান্তির ঘুম বিপাকে দিনমজুররা

তীব্র তাপদাহে গোপালপুরে ভয়াবহ লোডশেডিং: রাতেও মিলছে না শান্তির ঘুম বিপাকে দিনমজুররা
কে শিপন,
সোনামুই প্রতিনিধি,
দিনের বেলা অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে গ্রামীণ মানুষগুলো গাছের তলায় কিংবা বাড়ির পাশে ছায়া ও ঠান্ডা জায়গায় আশ্রয় নিলেও রাতের বেলা ঘরে থাকার কোনো উপায় থাকছে না। প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে কাটানোর কারণে এলাকায় বাড়ছে নানা রকম শারীরিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এড়াতে বেশি বেশি খাবার স্যালাইন ও নিরাপদ পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সারাদিন যেমন-তেমন, রাতে একটু শান্তির ঘুম চাই। বিদ্যুৎ বিভাগ দিনের বেলা লোডশেডিং করুক, কিন্তু রাতের বেলা যেন আমাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ ও অসহ্য গরমের মাঝে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট তথা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম। বিশেষ করে উপজেলার সোনামুই গ্রাম এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আকাশচুম্বী আকার ধারণ করেছে। দিনভর দফায় দফায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করলেও, রাতের চিত্র আরও ভয়াবহ। সূর্য ডোবার পর প্রায় পুরো রাতই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে। ফলে এই তীব্র গরমে রাতের বেলা একটু শান্তির ঘুম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।
গ্রামের ক্ষুব্ধ এক বাসিন্দা এই চরম আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও প্রান্তিক চাষিরা। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে তীব্র রোদে দিনমজুররা কাজে বেরোতে পারছেন না, আবার চাষিরাও জমিতে গিয়ে চাষাবাদ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি, ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন রোজগার। কাজ করতে না পেরে গ্রামের মোড়ে, বাজারের বটতলায় কিংবা যেখানেই একটু ছায়া ও ঠান্ডা পরিবেশ মিলছে, সেখানেই ভিড় করছেন শত শত মানুষ। একটু স্বস্তির খোঁজে দিনভর গল্প আর আড্ডায় সময় পার করছেন তারা।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর এখন একটাই জোরালো দাবি—কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সংকটের সমাধান করে। সারাদিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন, রাতে যেন অন্তত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়, যাতে দিনশেষে খেটে খাওয়া মানুষগুলো একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। স্থানীয়রা এই বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আজ রোজ শনিবার ৪-জুলাই।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪