
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় মেধা, প্রযুক্তি ও কৃষি উন্নয়নের মিলনমেলা “মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী,শিক্ষক, কৃষক,উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন,এমপি,মাননীয় মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ,কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী,প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও সাধারণ জনগণ।
সভাপতিত্ব করেন মোছাঃ তানজিনা খাতুন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিরামপুর,দিনাজপুর। অনুষ্ঠানটি এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম এর আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস,বিরামপুরের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দিনব্যাপী আয়োজিত বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত বিজ্ঞান প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা,স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ উপস্থাপন করে। প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল—নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা পরিবেশবান্ধব কম্পোস্ট সার উৎপাদন গবাদিপশুর গোবর থেকে জৈব সার প্রস্তুত
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক উদ্ভাবন
তরুণ উদ্যোক্তাদের স্টার্টআপ আইডিয়া মেলায় স্থাপিত প্রতিটি স্টল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা,গবেষণা মনস্কতা এবং বাস্তবমুখী চিন্তার পরিচয় বহন করে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
কৃষি উন্নয়নে সরকারের সহায়তা
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় উপজেলার কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ,ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন,কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহ মাননীয় মন্ত্রী বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা,বিজ্ঞানচর্চা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,“আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী,গবেষক ও উদ্যোক্তা। তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।”টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা মেলায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং জৈব সার উৎপাদন বিষয়ক স্টলগুলো দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। গরুর গোবর ও কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে কম্পোস্ট সার তৈরির পদ্ধতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর বাস্তবসম্মত ধারণা তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,বিজ্ঞান, প্রযুক্তি,শিক্ষা ও কৃষির সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা,কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সরকারের উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমের সমন্বয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।
বিরামপুরের এই আয়োজন শুধু একটি বিজ্ঞান মেলা নয়; এটি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা,সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির এক অনন্য প্রদর্শনী। শিক্ষা,বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও কৃষির সমন্বয়ে গড়ে উঠবে উন্নত,সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীরা।
মেধা,উদ্ভাবন ও উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ প্রজন্মই হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ জাতি গঠনের প্রধান শক্তি।