
সম্প্রীতির দায়িত্ব পালন করেছি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল
আব্দুর রাজ্জাক সরকার,
জেলা প্রতিনিধ,
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২নং হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (হাসবাড়ী) গ্রামে নির্মাণাধীন শ্রী শ্রী কালিমন্দিরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছে।
সংসদ সদস্য বলেন, মধ্যরামচন্দ্রপুর এলাকায় স্থানীয় সমাজসেবক হরিদাস বাবুর উদ্যোগে মন্দিরের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ওই এলাকায় একটি হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবং হরিদাস বাবুর উদ্যোগে আয়োজিত একটি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সকল মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি নয়, বরং সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করাই আমার নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি।
অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু স্পষ্টভাবে জানান, শ্রী শ্রী কালিমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা উদ্বোধনের কোনো অনুষ্ঠানেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং তিনি ওই মন্দির উদ্বোধনও করেননি। অথচ একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে মন্দির উদ্বোধনের সঙ্গে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, “যারা আমাকে নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র তাঁকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে একপাক্ষিকভাবে সমালোচনা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সুস্পষ্টভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ। এই ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সকল সচেতন নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুরের শান্তিপ্রিয় মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সক্ষম। কোনো অপপ্রচার বা গুজব তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। যারা এই মিথ্যাচারের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদেরকে এ ধরনের হীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
পলাশবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করুন। কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের পাতানো ফাঁদে পা দেবেন না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
পরিশেষে, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা।