প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 2, 2026 ইং
বন্ধু’র স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করার কারণেই রাশেদকে কুপিয়ে হত্যা

ফলোআপ :
আল মাহমুদ প্রিন্স, খুলনা
চলতি বছর ১৯ মার্চ রাশেদের বাড়িতে ঢুকে তারা বাবা কাজী আনিসুর রহমান, মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বড় ভাই রাইসুল ইসলাম, স্ত্রী ফাহিমাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওইদিন রাশেদ কাজী বাড়িতে না থাকায় বে়ঁচে যায় রাশেদ। কিন্তু আজ সেই সুযোগটি পাননি রাশেদ। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মো. রাশেদ কাজীকে (২২) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আর এ হত্যাকান্ডের পেছনে বন্ধুর স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করার প্রাথমিক কারণ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাশেদ কাজীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নগরীর লবণচরা থানার স্কুলভিটা এলাকার স্কুলের সামনে তাঁর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবক একই থানার কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা আনিসুর কাজীর ছেলে। তিনি খুলনার একটি প্রেসের কর্মচারী ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই কাজী রাইসুল জানান, সকালে আমি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারলাম সোয়া ১১টার দিকে রাশেদের পরিচিত এক যুবক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে শুনতে পাই স্কুল ভিটার স্কুলের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
লবণচরা থানার উপ-পরিদর্শক পিযুষ দাশ জানান, সংবাদ জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনার নেপথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডের সাথে রাশেদের পরিচিতরা জাড়িত রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নগরীর লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, হত্যাকারীরা রাশেদের পূর্ব পরিচিত। তারা বাড়িতে এসে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাচিবুনিয়া এলাকায় নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল রাশেদ। সেখানে সন্ত্রাসী গ্রুপ বি- কোম্পানির সদস্য ইমরানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমরানের স্ত্রীকে বিয়ে করে রাশেদ। এই ক্ষোভে রাশেদের বাড়িতে ঢুকে ১৯ মার্চ গুলি করে ইমরান। ওই সময় রাশেদের বাবা কাজী আনিসুর রহমান, মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বড় ভাই রাইসুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমা গুলিবিদ্ধ হন। আজকের এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আগের হামলার যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে রাশেদ একটি মাদক মামলায় কারাবন্দি হয়েছিলেন। কারাগারে তার সঙ্গে একই ধরনের মামলায় বন্দী ইমরানের সাথে পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বে পরিণত হয়। ইমরানের আগে রাশেদ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায় ইমরান তাকে পরিবারের খোঁজখবর রাখতে বলে।
ফলে ইমরানের বাড়িতে রাশেদের যাতায়াত শুরু করেন। আনুমানিক ছয়-সাত মাস আগে ইমরান আবারও এক মামলায় কারাগারে গেলে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে রাশেদ। এটি জানাজানি হলে রাশেদ ও ফহিমা বিয়ে করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরে ওই হামলা হয়েছিল। এবং মঙ্গলবার রাশেদকে হত্যা করা হয়েছে।
রাশেদের বাবা কাজী আনিসুর রহমান বলেন, আগেরবার ফাহিমার প্রথম স্বামী ইমরান বাড়িতে রাশেদকে মারতে এসেছিল। ওকে না পেয়ে আমাদের গুলি করে। ওই ঘটনার বিচার হলে আমার ছেলেকে খুন হতে হতো না।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪